শসা চাষে ভাগ্য বদলে গেছে লালমনিরহাটের কৃষক রুহুল আমিনের। মাত্র দুই মাসে বাম্পার ফলনের মুখ দেখেছেন তিনি। মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে এমন সাফল্য দেখে আগ্রহী হচ্ছেন অন্যান্য কৃষকরাও। আলুতে খরচ বেশি দাম কম তাই এবারে ভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় শসা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন এই কৃষক।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এলাকার কৃষক রুহুল আমিন জানান, গত দুই বছর ধরে আলু চাষ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এবারে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে দুই বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছেন তিনি।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এবছর জেলায় ৭৩ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। তবে মাত্র দুই মাসে তিনবার শসা উত্তোলন করে দুই লাখ টাকা আয় হয়েছে বলে জানায় এই কৃষক। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে তবে এই রমযানে ৫-৭ লাখ টাকার শসা বিক্রির আশাবাদী তিনি।
কৃষক রুহুল আমিন আরোও বলেন, আমি শসা চাষ করে বাম্পার ফলন ও দাম ভালো পেয়েছি এমন সাফল্য দেখে আগ্রহী হচ্ছেন অন্যান্য কৃষকরাও। শসা ক্ষেতে কর্মরত শ্রমিকরা জানায় প্রচুর পরিমাণে শসা ধরেছে তাই অনেক লাভ হবে।
স্থানীয় কৃষক রহিম মিয়া জানান, শসা ক্ষেতের বাম্পার ফলন হয়েছে। রমযানে বিশেষ চাহিদা থাকায় এখানকার উৎপাদিত শসা ঢাকা কারওয়ান বাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে তাই ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। আগামীতে আমি নিজেও শসা চাষ করবো।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিউটি রানী বৈরাগী বলেন, শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে এসে পরামর্শ দেওয়ায় ভালো ফলন হয়েছে। সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় এ পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছে এই কৃষক।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক, মো. মতিউল আলম জানান, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শসা ক্ষেত পরিদর্শন করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা বিভিন্ন জাতের শসা চাষ করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। এ বছর কৃষকরা হাইব্রিড ও উপশী জাতের শসা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রোগাক্রান্ত যেকোনো ফসলের পাতা, কাণ্ড, ফল, ফুলের নমুনা আমাদের অফিসে নিয়ে আসলে আমরা পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবো।
উল্লেখ্য, ভালো ফলন ও সঠিক মূল্য পাওয়ায় একদিকে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি, অন্যদিকে শসা চাষে আগ্রহী হচ্ছে চাষীরা।
এএন