মধুপুরে গারো পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙার অভিযোগ, ইউএনও’র ঘটনাস্থল পরিদর্শন

আ. হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:০৪ এএম

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঁদপুর রাবার বাগান এলাকায় শটগান দিয়ে গুলির ভয় দেখিয়ে একটি দরিদ্র গারো পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রাবার বাগানের আনসার সদস্যদের হাতে এক গারো নারী হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন।

জানা যায়, মধুপুর উপজেলার চাঁদপুর রাবার বাগানের কালাপাহাড় এলাকায় শিবলী মাংসাং নামের এক ভূমিহীন গারো নারী প্রায় পাঁচ বছর আগে বাড়িঘর তুলে তার ১১ সন্তানসহ বসবাস করছেন। ভাঙাচোরা একটি ছোট ঘরে পরিবারের ১৩ সদস্যের বসবাস কষ্টকর হওয়ায় তিন দিন আগে তিনি একটি দুই-চালা ছাপড়া ঘর তুলেছিলেন। খবর পেয়ে বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থার ফিল্ড অফিসার বিজন কুমার সশস্ত্র আনসার সদস্যসহ ২০-২৫ জন স্টাফ নিয়ে সোমবার সেখানে যান। এ সময় তারা ছাপড়া ঘরের ছাউনি ও খুঁটি ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বাড়ির ফলদ গাছও কেটে ফেলা হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির কর্তা শিবলী মাংসাং বাধা দিতে গেলে আনসার সদস্যরা তার কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এক পর্যায়ে এক আনসার সদস্য তাকে গুলি করার উদ্দেশ্যে শটগান তাক করেন। পরে অন্যরা সংযত হওয়ার ইঙ্গিত দিলে তিনি গুলি করা থেকে বিরত থাকেন। এ সময় শিবলী মাংসাংকে শিশু সন্তানসহ ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

শিবলীর স্বামী রুমেন খুবি জানান, চাঁদপুর রাবার বাগানের বহু জমি প্রভাবশালীরা জবরদখল করে আনারস ও কলার চাষ করছেন এবং বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ তাদের মতো একটি অসহায় পরিবারের ঘর ভেঙে গুলির ভয় দেখিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এর প্রতিকার দাবি করেন।

চাঁদপুর রাবার বাগানের আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা জানান, উত্তেজনার মুহূর্তে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে। ভয় দেখানোর জন্য শটগান তাক করা হয়েছিল। চাঁদপুর রাবার বাগানের ম্যানেজার আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাগানের জমিতে নতুন করে ঘর তুলতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তবে তাদের উচ্ছেদ করার কোনো চেষ্টা ছিল না।

বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থা মধুপুর জোনের মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, এটি দুঃখজনক ঘটনা। দরিদ্র পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ ঠিক হয়নি। আনসার সদস্যরা বাড়াবাড়ি করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গারো পরিবারটি যাতে ওই বাড়িতে থাকতে পারে সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দরিদ্র পরিবারটিকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বেপরোয়া আচরণের জন্য বাগানের আনসার টিমকে বদলির সুপারিশ করা হচ্ছে।

এএন