নতুন পুত্রবধূকে নিয়ে মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়ার নিজ বাড়িতে ফেরার কথা ছিল বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের। স্বজন ও প্রতিবেশীরা মুখিয়ে ছিলেন বর-বউকে বরণ করে নিতে। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিমিষেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত করেছে। এখন বাড়ির সামনে সারিবদ্ধ ৯টি নিথর দেহ দাফনের অপেক্ষায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মাইক্রোবাস চালকসহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে মোংলায় ৯ জন, কয়রায় ৪ জন এবং রামপালে চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার ৫ ছেলে ও এক মেয়ে। গতকালের দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, গাড়িচালক নাঈম শেখ, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ।
নিহত বরের ভাই জনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি এখন একদম একা।
প্রতিবেশী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহের গোসল সম্পন্ন হয়েছে। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে। জানাজায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেএইচআর