মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের আলমখালী বাজার এখন কার্যত আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। বিএনপির দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সকালেও প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে আলমখালী বাজার সড়কে বিএনপির সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমানের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাধে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হলে তা দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় আব্দুল মমিন মোল্লা (৫৫) ও আব্দুল মান্নান লস্কর (৪৫)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালায়। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটোছুটি করে এলাকা ত্যাগ করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালেও আলমখালী বাজার এলাকায় কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক দোকানপাট আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অপ্রয়োজনে বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় সংঘর্ষে জড়িতরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবুও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থামেনি, যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
মাগুরা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এএন