পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হেসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ ও নীতিবহির্ভূত কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অমান্য করে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় টেস্টে অকৃতকার্য ছাত্রীদের ফরম পূরণে মেধা তালিকায় নাম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং অফিস খরচ বাবদ রসিদ ছাড়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতিটি বিষয়ে ১,০০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি নিয়ম অমান্য করে খণ্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের বেতন বাবদ ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ব্যাচের অভিভাবক মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ অভিযোগ করেছেন, কোচিং করানোর কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোচিং প্রদান করা হয়নি এবং টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া গত তিন বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য উপবৃত্তির টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিবর্তে ‘রবিন স্টোর’ নামক নির্দিষ্ট দোকান থেকে ড্রেস ও জুতা কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করেন। ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকলেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নেই। বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও আঙিনা নোংরা অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেও জাতীয় ও সরকারি দিবস যেমন ২১ ফেব্রুয়ারি এবং ২৬ মার্চ তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও হয়নি। পরে উপজেলা বিএনপি সদস্য নিজামুল কবির মিরাজ মুঠোফোনে কল করে তাকে বিদ্যালয়ে আনার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বিদ্যালয় প্রধানের জাতীয় দায়িত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আখতার হেসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকলিমা আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। শিক্ষার্থী বা অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ রুহুল আমিন দুলাল বলেন, সরকারি দিবসে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেয়া হবে।
এএন