নাজিরপুরে ক্লাস চলাকালিন বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে দুই শিক্ষার্থী আহত

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক পাখা খুলে মাথায় পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৮১ নং জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, জয়পুর গ্রামের সঞ্জীব সমাদ্দারের ছেলে সৌভিক সমাদ্দার (১১) এবং একই এলাকার রেজাউল মাঝির মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১১)। গুরুতর আহত ওই দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাত্রী রাবেয়া খাতুনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং ছাত্র সৌভিক সমাদ্দারকে তার মাথায় গুরুতর আঘাত হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত ছাত্রী রাবেয়া খাতুন জানান, শনিবার সকালে তারা প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের তৃতীয় শ্রেণীর কক্ষে গণিত ক্লাস করছিল। হঠাৎ শ্রেণীকক্ষে থাকা একটি চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে সৌভিক সমাদ্দারের মাথার উপরে পড়েছে। পরে তিনি নিজেও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পাশের কিছু শিক্ষার্থীও আহত হয়েছেন, তবে গুরুতরভাবে নয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিক্তা মণ্ডল বলেন, “আমি তখন গণিতের ক্লাস নিচ্ছিলাম। শিক্ষার্থীদের অংক করতে দিয়েছিলাম। হঠাৎ একটি শব্দ শুনে দেখি ফ্যান খুলে ওদের মাথার উপর পড়েছে। পরে আমরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসি।”

প্রধান শিক্ষিকা স্নিগ্ধা রানী মণ্ডল বলেন, “ওই ভবনটি আমাদের পুরাতন ভবন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে ক্লাস হচ্ছে। আমি লাইব্রেরিতে মিটিং করছিলাম। কিছু শিক্ষার্থী দ্রুত এসে জানায় দুইজন আহত হয়েছে। আমরা দ্রুত হাসপাতালে পাঠাই। একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।”

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডা. অতনু হালদার বলেন, “আমাদের এখানে দুই শিশু এসেছে। একটির হেড ইনজুরি বেশি, অন্যটির মাথার কানের কাছে সামান্য কেটে গেছে। কাটা শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। ছেলের মাথায় গুরুতর আঘাত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা খুলনা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম জানান, “শিক্ষকরা আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন। একজন অল্প আহত হয়েছে, অপরজন বেশি ইনজুরি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে গেছে। বর্তমানে উভয়ের অবস্থা সুস্থ।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের সকল কাজ এলজিইডি করে। এলজিইডি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অবগত করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট পাঠানো হবে।”

এএন