চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষক রানা আলী। জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদোওয়া মাঠে মাত্র এক বিঘা জমিতে তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর বাগান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বাইকুনুর, গ্রিনলং, অ্যাকোলোর ও ব্ল্যাক ম্যাজিকের মতো উন্নত জাতের আঙুর। রানার এই সাফল্যে চুয়াডাঙ্গার কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।
রানা আলী জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে চারা সংগ্রহ করে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাগান শুরু করেন। চারা কেনা, জমি প্রস্তুত ও সার মিলিয়ে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তিনি আশা করছেন, আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ শুরু হবে। বাজারদর অনুযায়ী বাগান থেকে অন্তত ৭ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে রানার আয়ের মূল উৎস হিসেবে দাঁড়িয়েছে আঙুর গাছের কলম করা চারা। তিনি মোট ১২ হাজার চারা উৎপাদন করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু চারা বিক্রিও করেছেন তিনি। এছাড়া সাথি ফসল হিসেবে একই জমিতে হলুদ গোলাপ চাষ করে বাড়তি আয়ের পথ বের করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে এই এক বিঘা জমি থেকে খরচ বাদে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লাভের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন এই সফল উদ্যোক্তা।
রানার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও কৃষকরা ভিড় করছেন। অনেকে তাঁর কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান করার পরামর্শ নিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। রানা আলীর বাগানটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সঠিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে এটি জেলার অন্যান্য কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
জেএইচআর