বাংলা নববর্ষ বরণ করতে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা

চাঁদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

বছরজুড়ে মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা কম থাকলেও পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে এর কদর কিছুটা বাড়ে। বিশেষ করে বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া, শোল্লা ও মানুরী গ্রামের মৃৎশিল্পী পরিবারগুলো এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছে। নিপুণ কারুকার্যে তারা তৈরি করছেন মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর ও হাঁড়ি-পাতিলসহ হরেক রকমের খেলনা ও ঘর সাজানোর সামগ্রী।

উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে উৎসবমুখর কর্মব্যস্ততা। ঘরের আঙিনায় নারী-পুরুষ সবাই মিলে মাটি দিয়ে নানা জিনিস গড়ছেন। কেউ মাটির ছাঁচ তৈরি করছেন, কেউ রোদে শুকিয়ে আগুনে পোড়াচ্ছেন, আবার কেউ নিপুণ তুলির আঁচড়ে রঙিন করে তুলছেন এসব পণ্য। মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে রাত-দিন এক করে কাজ করছেন এই কারিগররা।

মৃৎশিল্পী নয়ন পাল, জবা পাল ও সেটু পাল জানান, সারা বছর কাজ থাকলেও নববর্ষের সময় ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই মৌসুমে বিক্রি বাড়লে সারা বছরের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। তবে পৈতৃক পেশা ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। মিন্টু ও বিকাশ পাল বলেন, অর্থসংকটের কারণে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। আধুনিক প্লাস্টিক পণ্য বাজার দখল করায় মাটির পণ্যের চাহিদা কমছে, অথচ মাটির পণ্য অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রাচীন শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি পরিবারকে ইতোমধ্যে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় প্রশিক্ষণ ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে মৃৎশিল্পীদের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ প্রণোদনা নেই। তবে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, কেবল মৌসুমি চাহিদা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝেও বাংলা নববর্ষের রঙে নিজেদের মাটির পণ্য সাজিয়ে আবারও নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন চাঁদপুরের এই কারিগররা।

জেএইচআর