নাগরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি: প্রতিষ্ঠা থেকে নির্বাচন, কেমন চলছে কার্যক্রম?

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি’। বর্তমানে সংগঠনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ পথচলার পর সমিতির বর্তমান কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এখন শিক্ষক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

নাগরপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন নিজস্ব ভবনে বর্তমানে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট একটি অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ৩ মাস মেয়াদি এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন শহীদ শামসুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কেতাব আলী এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেকড়া বিশেস্বর চক্রবর্তী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কোহিনূর হোসেন।

সমিতির ৪৬০ জন সদস্যের মাসিক ২০০ টাকা চাঁদায় এর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ চলে। তবে সমিতির মূল লক্ষ্য শিক্ষকদের সমন্বয় ও শিক্ষার মানোন্নয়ন কতটা অর্জিত হচ্ছে, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলার শিক্ষক সংকট, কোচিং নির্ভরতা এবং নিয়মিত পাঠদানের অভাব মোকাবিলায় সমিতির ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।

মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন , শিক্ষক সমিতি ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিবর্তন আনতে হলে এর কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।

সহকারী শিক্ষক, মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. শওকত আলী বলেন, শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে এর কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হওয়া দরকার।

সহকারী শিক্ষক, নয়ানখান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. আব্দুর রউফ বলেন, শিক্ষক সমিতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর হওয়া জরুরি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাদির আহমেদ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সমিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। শিক্ষকদের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

দীর্ঘদিন অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে চলার পর আগামী ২৩ মে সমিতির নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ৪৬০ জন ভোটারের অংশগ্রহণে এই নির্বাচনে ১৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন মো. আনোয়ার হোসেন। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মো. শওকত আলী এবং মো. আব্দুর রউফ।

দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় উপজেলার ৪১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষকদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নেতৃত্ব উঠে আসবে, যারা নাগরপুরের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

জেএইচআর