চার বছরের সম্পর্ক, অসংখ্য আশ্বাস কিন্তু শেষমেশ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে এক নারীর প্রতিবাদী অবস্থান। জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন ৪১ বছর বয়সী চম্পা, যিনি পাঁচ সন্তানের জননী।
সোমবার বিকেল থেকে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাঁশদাইড় এলাকায় যুবক কাজলের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তবে ঘটনার পর থেকেই কাজল ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী থেকে আসা চম্পার সঙ্গে চার বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় কাজলের। সেই পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে ফোনেই ‘কবুল’ বলে তারা বিয়ের ঘোষণা দেন যদিও এর কোনো আনুষ্ঠানিক কাবিননামা হয়নি।
চম্পা জানান, নিজের বয়স, আগের সংসার ও পাঁচ সন্তানের বিষয়টি শুরুতেই কাজলকে জানিয়েছিলেন। তবুও কাজল তাকে সংসারের আশ্বাস দেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক চালিয়ে যান। কাজলের কথায় ভরসা করেই আগের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তার।
সবশেষ চলতি মাসের ৯ তারিখ কাজলের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি আবারও তার বাড়িতে আসেন। কিন্তু সেখানে এসে দেখেন, কাজল নেই উল্টো পালিয়ে গেছেন। এবার আর ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চম্পা।
এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন পারভেজ বলেন, “এত দূর থেকে আসার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সম্পর্কের ভিত্তি আছে। আমরা চেষ্টা করছি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে।”
অন্যদিকে, মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে প্রতিশ্রুতির দাবি, অন্যদিকে নীরব পলায়ন এই টানাপোড়েনে এখন একটি সম্পর্কের পরিণতি নির্ধারণের অপেক্ষায় গোটা এলাকা।
এএন