গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের এক শান্ত গ্রাম মওয়াগাড়ি হঠাৎই নেমে এসেছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। তালাকপ্রাপ্ত দুই সন্তানের জননী এক নারীকে পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে তারই সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আলীনগর পাতা গ্রামের জলিলের পুত্র নজরুল মওয়াগাড়ি গ্রামের সম্পা বেগমকে বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে তাদের ঘরে এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। কিছুদিন তারা সুখেই সংসার করলেও পরে এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন নজরুল। এরপর তিনি প্রথম স্ত্রী সম্পা বেগমকে না জানিয়ে ওই বিধবা নারীকে গোপনে বিয়ে করেন এবং প্রথম স্ত্রীকে গোপনে তালাক দেন।
তালাকের এক বছর পর সম্পা জানতে পারেন যে তাকে আগেই তালাক দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। এক পর্যায়ে সম্পা ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, আলোচনার এক পর্যায়ে সুকৌশলে ঘরের ভেতরে ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে যান নজরুল ইসলাম। বিষয়টি কেউ টের পাননি। পরদিন ২০ এপ্রিল বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে একটি অজ্ঞাত নম্বর (০৮৮০৯৩৮৬৭১২৪৮) থেকে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ফোন করে জানানো হয় ওই বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ রয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং প্রায় ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। হঠাৎ এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন সম্পা ও তার পরিবার এবং গ্রামবাসী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সম্পা বেগম বলেন, “আমি কিছুই জানি না। আমার সাবেক স্বামী গত রাতে এসে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এই কাজ করে গেছে। আমি এর বিচার চাই।”
এদিকে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বন্ধু নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ স্বপন কুমার জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা আদালতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন মিথ্যা ফাঁসানোর চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ভয়াবহ। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এএন