পাকুন্দিয়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলাজুড়ে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১২ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে-রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এর ফলে গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, পাকুন্দিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার ফোন করলেও কেউ রিসিভ করছে না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। অনেকের দাবি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে মিটারে বেশি ইউনিট কাটছে, যা পল্লী বিদ্যুতের অদায়িত্বশীল আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয়দের মতে, শীতকালে লোডশেডিং না থাকলেও গরম আসতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সাধারণ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ না পেলেও উপজেলাজুড়ে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিং গ্যারেজগুলো ঠিকই সচল রয়েছে। এই গ্যারেজগুলোর অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ছে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। এদিকে লোডশেডিংয়ের সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী চার্জার ফ্যানের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। হাসপাতালগুলোতেও রোগীরা সেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, দিনের শেষে ব্যবসা শুরু করার আগেই লোডশেডিংয়ের কারণে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। এছাড়া সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার নজিরও রয়েছে এ উপজেলায়।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জানান, গত কয়েকদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সমস্যার কারণে সব জায়গায় লোডশেডিং ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং সামনে আর এমন সমস্যা হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেএইচআর