কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে প্ল্যাটফর্মের নিচে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন এক বাবা ও তাঁর এক বছর বয়সী সন্তান।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা অভিমুখী তিতাস কমিউটার ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে। তাদের ওপর দিয়ে ট্রেনের ৮টি বগি চলে গেলেও দুজনেই অক্ষত রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা একটি পরিবার ভৈরব স্টেশনে নামার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে স্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রাবিরতি শেষে ট্রেনটি যখন চলতে শুরু করে, তখন তাড়াহুড়ো করে কোলের শিশুকে নিয়ে নামার চেষ্টা করেন বাবা। এ সময় অসতর্কতাবশত শিশুটি হাত ফসকে প্ল্যাটফর্ম ও চলন্ত ট্রেনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় পড়ে যায়।
সন্তানকে চোখের সামনে ট্রেনের নিচে পড়তে দেখে বাবাও মুহূর্তের মধ্যে লাফিয়ে নিচে পড়েন। লাইনের পাশে থাকা প্ল্যাটফর্মের দেয়ালের সঙ্গে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে সেঁটে শুয়ে থাকেন তিনি। চোখের পলকে তাদের ওপর দিয়ে ট্রেনের আটটি বগি চলে যায়। স্টেশনে থাকা শত শত যাত্রী এই দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠলেও ট্রেন থামার পর দেখা যায় বাবা ও ছেলে দুজনেই অক্ষত অবস্থায় সুস্থ আছেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইয়িদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটটি বগি ওপর দিয়ে চলে যাওয়ার পরও তারা বেঁচে থাকাটা স্রষ্টার অসীম কৃপা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি না নিতে যাত্রীদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
জেএইচআর