​ভাঙা ঘরে বসবাস, দু’মুঠো খাবারের  নিশ্চয়তা নেই হাফিজুর দম্পতির

রোকনুজ্জামান সবুজ, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে শুধুই একটি ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ টিনের ঘর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত, সবই সহ্য করতে হয় এই ঝুপড়ির ভেতর। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, কিন্তু দুবেলা দুমুঠো খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই। এমন মানবেতর জীবন পার করছেন বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী।

সরেজমিনে দেখা যায়, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পচাঁবহলা গ্রামের এই অসহায় দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি সামান্য আরাম কিংবা সন্তানদের মমতা। অযত্ন আর অবহেলায় চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। জরাজীর্ণ ঘরের ফুটো দিয়ে যেমন আকাশ দেখা যায়, তেমনি তাদের চোখেও ফুটে উঠেছে অনিশ্চয়তার ছাপ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুর রহমানের বয়স এখন আশির কোঠায়। শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনেক আগেই কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন। তবুও পেটের তাগিদে অনেক সময় অন্যের দ্বারে হাত পাততে হয়। সন্তানরা থাকলেও তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত; বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। ফলে এই বয়সে যেখানে একটু সেবা-শুশ্রূষা পাওয়ার কথা, সেখানে তাদের দিন কাটছে চরম অবহেলায়।

কান্নাভেজা চোখে হাফিজুর রহমান বলেন, বাপু, ঘরটা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢোকে, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। তার ওপর খাবারের কষ্ট তো আছেই। সন্তানদের কাছে চেয়েও কিছু পাই না।

তার স্ত্রী জানান, অভাবের কারণে অনেক দিন তাদের আধাপেটা বা না খেয়েই দিন পার করতে হয়। সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না এলে তাদের এই কষ্টের শেষ নেই।

এলাকাবাসীর দাবি, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন দ্রুত এই বৃদ্ধ দম্পতির দিকে নজর দেন। একটি নিরাপদ ঘর এবং নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো শেষ বয়সে তারা কিছুটা শান্তি পাবেন।

এম জি