বৃষ্টিতে নাসিরনগরে হাজার বিঘা বোরো ধান পানির নিচে

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে মেদিনীর হাওরের প্রায় এক হাজার বিঘা পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বিঘা জমির ফসল হানির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

গত রোববার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে লংগন, বেমালিয়া, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর তীরঘেঁষা হাওরগুলোতে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় মুহূর্তেই পাকা ধান তলিয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক নিরুপায় হয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে আধপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে স্রোতের কারণে ধান কাটা ও সংরক্ষণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই ঋণনির্ভর ও বর্গাচাষি। বুড়িশ্বর ইউনিয়নের কৃষক খালেক জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, কিন্তু মুহূর্তের ব্যবধানে সব স্বপ্ন তলিয়ে গেছে। একই হাহাকার মেদিনীর হাওরের কৃষক মাহফুজ মিয়ারও, যাঁর ১৪ বিঘা জমির ফসল এখন পানির নিচে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বিভিন্ন সড়ক নির্মাণের ফলে নাসিরনগর ও সরাইলের হাওরের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, নতুন এসব সড়ক হওয়ার পর থেকেই পানি অস্বাভাবিক আচরণ করছে, যা কৃষি ও মৎস্য খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। প্রতিবেশী সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে আগাম বন্যার শঙ্কা থাকায় নাসিরনগরের কৃষকদের মাঝে এখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

জেএইচআর