মনিরামপুরের অভিশপ্ত ভবদহ পাড়ের বোরো চাষি কৃষকদের স্বপ্ন মিলিয়ে যাচ্ছে বিরূপ আবহাওয়ায়। জলাবদ্ধ বিল এলাকার অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গার কিছু মৎস্য ঘেরে সেচযন্ত্র দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে দেরিতে হলেও বোরো ধান আবাদ করে কৃষকেরা ভালো ফলন পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই আশা আজ নিরাশায় পরিণত হতে চলেছে। প্রতিনিয়ত ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের ক্ষেতে ভাসছে কষ্টার্জিত ফসল। অধিক খরচ করে ধান আবাদ করেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারা এখন মহাচিন্তায় পড়েছেন।
এদিকে, এক একজন শ্রমিকের জন্যও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক। উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের লখাইডাঙ্গা গ্রামের বোরো চাষি গোলক সরকার জানান, টাকার বিনিময়ে বিলের জমি থেকে পানি নিষ্কাশন করে ধারদেনা করে আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। ধানের ক্ষেতে সেচ, সার ও অন্যান্য পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানের গাছ ও ফলন দেখে তিনি ভেবেছিলেন, কাঠা প্রতি দুই মণ করে ফলন পাবেন। খরচ বাদে ভালো লাভের আশাও ছিল। কিন্তু এখন ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি নিজেই কাঁধে করে ধানের বোঝা মাঠ থেকে রাস্তায় আনছেন। শ্রমিক নেওয়ার টাকা না থাকায় নিজেই কষ্ট করে ধান তুলছেন।
মনোহরপুর গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, চার বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন, ফলনও ভালো ছিল। কিন্তু তিনি বলেন, অনেক ধারদেনা করে অতি কষ্টে ধান আবাদ করেও এখন বৃষ্টির পানিতে ধান ডুবে যাচ্ছে। তিনি অশ্রুভেজা চোখে জানান, ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
নেহালপুর ইউনিয়নের সদানন্দ কর্মকার জানান, ঝড়ে ক্ষেতের পাকা ধান পড়ে গেছে এবং জমিতে পানি জমে গেছে। তিনি বলেন, ফসল কিভাবে ঘরে তুলবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, নেহালপুর, মনোহরপুর, ঢাকুরিয়া, দূর্বাডাঙ্গা, খানপুর ইউনিয়নসহ ভবদহ অধ্যুষিত বিল অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে তৈরি মৎস্য ঘেরের পানি সেচ দিয়ে এবার বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন কৃষকেরা। ভবদহ অঞ্চলের সবচেয়ে জলাবদ্ধ বিল বোঁকড়, বিল কেদারিয়া, আড়পাতার বিল, হরিণার বিল, সামন্দডাঙ্গার বিল, বিল শালিখাসহ আশপাশের বিলাঞ্চল থেকে সেচপাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে কৃষকেরা ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ায় তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
কুলটিয়া ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেখা বিশ্বাস জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকেরা সতর্কভাবে ধান কাটছেন। আবহাওয়া ভালো হলে তারা দ্রুত ফসল সংগ্রহ করতে পারবেন।
এএন