নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় একটি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা পরিবার ত্যাগ করার পর তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটি নানির সঙ্গে থেকে স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মাদরাসার পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর তাকে অনৈতিকভাবে নির্যাতন করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি দেন।
পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তার দাবি, মেয়েটি অনিয়মিতভাবে মাদরাসায় আসত এবং কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।
শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার। তিনি জানান, শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, যা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী সব ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এএন