স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা, নারী পাচারকারী আটক

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নাদিয়া আক্তার (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইসরাত জাহান মীম (২০) নামে এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার আদর্শনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থী নাদিয়া উপজেলার সুয়াইর গ্রামের আল আমিনের মেয়ে। অন্যদিকে আটক ইসরাত জাহান মীম পাশের আটপাড়া উপজেলার সোনকানিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল নাদিয়া। পথে অভিযুক্ত ইসরাত জাহান কৌশলে নাদিয়ার কাছে গিয়ে নিজেকে তার ‘আন্টি’ পরিচয় দেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি নাদিয়ার মা, স্কুল ও শিক্ষকদের নামসহ পরিচিত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন। 

একপর্যায়ে তিনি জানান যে, নাদিয়ার মা তাকে মোহনগঞ্জ শহর থেকে মিষ্টি আলু কিনে আনতে পাঠিয়েছেন। সরল বিশ্বাসে শিশুটি তার সঙ্গে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে চড়ে মোহনগঞ্জ শহরের দিকে রওনা হয়।

নাদিয়ার সহপাঠীরা বাড়িতে ফিরে তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মোহনগঞ্জ শহরের বিএনপি অফিস মোড়ে নাদিয়াকে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আজ বুধবার দুপুরে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক তরুণী স্বীকার করেছেন যে শিশুটিকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তিনি একটি মানব পাচারকারী চক্রের হয়ে কাজ করেন এবং শিশুটিকে ওই চক্রের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক তরুণী জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএইচআর