প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা যাবে না

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি এবং এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পদ নয়-এটি সমগ্র জাতির গৌরবময় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি গণযুদ্ধ, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

বুধবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে আয়োজিত গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিজেকে একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে, তাই এর সঠিক ইতিহাস ও আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে এবং বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপনের মাধ্যমে এর চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এর ইতিহাসকে বিকৃত করা যাবে না। যার যে অবদান, তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে প্রকৃত ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস হামলার পর সারাদেশে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে জাতি সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। অতীতে তাকে অবমূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, তারা ইতিহাসে চিহ্নিত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব শক্তি বিভিন্ন সময়ে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করে। তবে পরবর্তীতে এ খাতে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ ওঠে।

তার দাবি অনুযায়ী, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে অনেকেই সুবিধা নিয়েছেন, যার প্রভাব প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও পড়েছে। তিনি বলেন, এসব কারণে নতুন প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটিকে মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হলেও দুটি আন্দোলনের চরিত্র ভিন্ন। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ ছিল সশস্ত্র সংগ্রাম, আর সাম্প্রতিক আন্দোলন ছিল একটি গণআন্দোলন।

এম জি