মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যার পর বস্তাবন্দি অবস্থায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলা গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত রবিউল ইসলাম (৩৪) মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের গোলাম সারোয়ারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পাওয়ার ট্রিলার চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস হাটখোলা গ্রামের একটি নির্জন স্থানে এসে থামে। গাড়ি থেকে একটি বস্তা রাস্তার পাশে ফেলে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এলাকাবাসী ধাওয়া করলে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় গাড়ি থেকে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও শাহাজাদা ও তপু শাহা নামের দুইজনকে স্থানীয়রা ধরে ফেলেন। পরে ফেলে যাওয়া বস্তার মুখ খুলে রবিউলের গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
আটক শাহাজাদা বোয়ালমারী উপজেলার আন্দারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা এবং তপু শাহা একই উপজেলার পংকজ সাহার ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে সাদা মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে রবিউল ইসলাম তার গ্রামের শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে বোয়ালমারীর হাটখোলা গ্রামে শাহিদুলের জামাইবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে পাওনা মোটরসাইকেল নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাহিদুল রবিউলকে সেখানে রেখে চলে আসেন। এরপর থেকেই রবিউল নিখোঁজ ছিলেন। বর্তমানে শাহিদুল ও তার জামাই পলাতক রয়েছেন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও মূল আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।