আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর দফায় দফায় বৃষ্টিতে জামালপুর জেলা ও সদর উপজেলার ইটভাটাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টানা অতিবৃষ্টিতে উপজেলার অন্তত ৪০টি ইটভাটায় স্থবিরতা বিরাজ করছে। এতে একদিকে মালিকপক্ষ বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে কাজ হারিয়ে কয়েক শ শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সাধারণত পৌষ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ইট তৈরির মূল মৌসুম। কিন্তু এ বছর অসময়ের বৃষ্টি সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। ভিজে মাটিতে ইট তৈরি করা যেমন অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তেমনি আগে থেকে তৈরি করা কাঁচা ইটগুলো শুকানোর সুযোগ না পেয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে অনেক ভাটায় সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মেষ্টা ফকিরপাড়া এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আ. রহিম ও উজ্জ্বল মিয়া জানান, তার ভাটায় বর্তমানে ২১০ জন শ্রমিক কর্মরত। তিনি বলেন, আমাদের কাজ চলে সিজন ভিত্তিক। ভাটা শুরুর আগেই মাটি ও কয়লা মজুত করতে হয় এবং অগ্রিম অর্ডার নিতে হয়। টানা ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জামালপুরের ভাটাগুলোতে টাঙ্গাইল, পাবনা, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, যশোর ও মাগুরা অঞ্চল থেকে আসা শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। তারা মূলত উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে মজুরি পান। কাজ বন্ধ থাকায় তাদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। অধিকাংশ শ্রমিকের উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাড়িতে কিস্তি ও সংসার চলে। দুই সপ্তাহ ধরে আয় না থাকায় তারা এখন দিশেহারা। বাড়ি থেকে অনেক দূরে আসায় অন্য কোনো বিকল্প কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগও তাদের নেই।
জেএইচআর