সয়াবিন চাষ বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানোর তাগিদ গবেষকদের

গাজীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

সয়াবিন গবেষণার সাম্প্রতিক অগ্রগতি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘সয়াবিন গবেষণা’ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি বিভাগের উদ্যোগে এবং সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও গ্রামীণ ইউগ্লেনার সহায়তায় এই আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোমেটিওরোলোজি বিভাগের কনফারেন্স রুমে কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়।

কর্মশালায় গবেষকরা জানান, বাংলাদেশে সয়াবিনের বাৎসরিক চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে দেশে উৎপাদিত হয় মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টন। প্রতি বছর সয়াবিন ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশকে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। বক্তারা বলেন, সয়াবিন চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বিশাল আমদানি ব্যয় কমিয়ে উল্টো রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে দেশের নোয়াখালী, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হচ্ছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সয়াবিনে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহ ও প্রাণিখাদ্যের পুষ্টি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। তবে এত গুণাগুণ থাকা সত্ত্বেও দেশে এর সহজলভ্যতা এখনও প্রত্যাশিত নয়।’ এই খাতকে এগিয়ে নিতে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কনসোর্টিয়াম গঠনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এগ্রোনমি বিভাগের সাবেক প্রফেসর এবং বাংলাদেশে সয়াবিন গবেষণার পথিকৃৎ ড. এম. আব্দুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সফিউল ইসলাম আফরাদ। এছাড়াও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সাপ্লাই চেইন প্রধান মোহাম্মদ মজিবুল হকসহ আইইউবিএটি-র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এ মান্নান 'ভেজিটেবল সয়াবিন' এর ওপর তথ্যবহুল উপস্থাপনা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীরাও গত এক বছরে সয়াবিন নিয়ে পরিচালিত গবেষণা ও ফলাফল উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, গাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগ এ পর্যন্ত সয়াবিনের ৬টি ভিন্ন ভিন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে, যা দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জেএইচআর