গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এক বাড়িতেই ২২ জনের প্রতিবন্ধী ভাতার সুপারিশ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য জরিপ ও মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়। এতে প্রায় ১,২০০ আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে এক হাজারেরও বেশি আবেদন প্রতিবন্ধী হিসেবে প্রাথমিকভাবে গ্রহণ এবং উপজেলা কমিটির সুপারিশ পায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব ভাতার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়া কাগজপত্র ও ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে প্রতিবন্ধী দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে রাজপাট ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাড়িতে একসঙ্গে ২১ জনকে প্রতিবন্ধী দেখিয়ে ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে। একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদেরও তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ভাতা করিয়ে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
একজন ভুক্তভোগী জানান, তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ভাতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। আরেকজন জানান, ১৭ হাজার টাকা দিয়ে কাগজপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট করানো হয়েছে। অন্যদিকে কেউ কেউ জানান, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু রাজপাট নয়, মহেশপুর, মহমুদপুর, পারুলিয়া, সাজাইল, কাশিয়ানী, রাতইল, ওড়াকান্দি, বেথুড়ী, ফুকরা, নিজামকান্দি, পুইসুর, হাতিয়াড়া ও সিংহসহ বিভিন্ন ইউনিয়নেও একই ধরনের অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে রাজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, কিছু অনিয়ম হতে পারে, তবে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকার ভিত্তিতে সুপারিশ করা হয় এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানা গেছে এবং সকল ইউনিয়নের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।
এ বিষয়ে তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এএন