গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সদর বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকেই কাজের আশায় জড়ো হন শত শত দিনমজুর। কেউ ধান কাটার কাজের অপেক্ষায়, কেউ আবার নির্মাণশ্রমিক বা অন্য কোনো দৈনিক মজুরির কাজের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন। তবে একদিকে ধানের কম দাম, অন্যদিকে শ্রমিকের উচ্চ মজুরি—দুই সংকটে বিপাকে পড়েছে এলাকার কৃষি অর্থনীতি।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর বাজার এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শ্রমিকরা কাজের অপেক্ষায় বসে আছেন। অনেকেই সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও কাজ পাননি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিককে দিতে হয় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। ধান কেটে ঘরে তুলতেই লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠে না।”
আরেক কৃষক সোহেল রানা বলেন, “সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে ধান চাষ এখন লোকসানের ব্যবসা হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেকে চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।”
অন্যদিকে দিনমজুরদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব নয়। শ্রমিক ঈদ আলী বলেন, “সারাদিন রোদে কাজ করি। বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। ৫০০-৬০০ টাকা মজুরিতে এখন সংসার চলে না। কাজও প্রতিদিন পাওয়া যায় না।”
দিনমজুর রহিম উদ্দিন বলেন, “ভোরে এসে বসে থাকি, কিন্তু অনেক দিন কাজ পাই না। কাজ না থাকলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হয়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “ধানের বাজারমূল্য ও উৎপাদন খরচের মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় কৃষকরা চাপের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরিও কৃষিতে প্রভাব ফেলছে। কৃষকদের খরচ কমাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”
এদিকে সকাল থেকে কাজের আশায় বসে থেকেও অনেক শ্রমিককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। এতে একদিকে কৃষকের লোকসান, অন্যদিকে শ্রমিকের বেকারত্ব- দুই সংকটে চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
এএন