চুয়াডাঙ্গায় সরকারি নিয়ম ভেঙে মাদ্রাসায় ক্লাস বন্ধের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা শিক্ষা পুঞ্জির স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালু না রেখে মাসব্যাপী শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর নিয়মিত শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাদ্রাসা শাখা-১ থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র থাকলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় পরীক্ষার সময় বিকল্প ব্যবস্থায় এবং কেন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য মাদ্রাসায় যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে। কোনো অবস্থাতেই পাঠদান বা শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে না। তবে বাস্তবে জেলার কয়েকটি মাদ্রাসায় এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।

দামুড়হুদা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আসাদুল হক জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যেদিন পরীক্ষা থাকে না, সেদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলাদা নির্দেশনার বিষয়টি তার জানা নেই। 

অন্যদিকে, কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী অভিযোগ করে বলেন, দামুড়হুদার একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম পরীক্ষা চলাকালে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বিকল্প ব্যবস্থায়ও পাঠদান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

অবশ্য এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম। তিনি জানান, অধ্যক্ষের সঙ্গে তার এ ধরনের কোনো কথাই হয়নি।

এদিকে আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসা, জীবননগর ফাজিল মাদ্রাসা এবং চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো বাইরে হওয়ায় সেসব মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আরা খাতুন বলেন, এ ধরনের নির্দেশনার বিষয়ে আমার জানা নেই। বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখে বলা যাবে। তবে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।

উল্লেখ্য, সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও গত ২১ এপ্রিল থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জেলার চার উপজেলার মোট পাঁচটি কেন্দ্রে এবার এক হাজার ১৫২ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

জেএইচআর