যশোরের ঝিকরগাছায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে কথিত কবিরাজ আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের একটি দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে শুক্রবার মাদারীপুর জেলার কালকিনি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল আলম জানান, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও সন্তান প্রসবের বিষয়টি জানার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গত ১২ মে সরাসরি ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে। এ সময় সে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নতুন একটি বাটন ফোন এবং জামাইয়ের সিম ব্যবহার করছিল। পুলিশ আরও জানতে পারে, সে সৌদি আরবে অবস্থানরত ছেলের কাছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছিল। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আদালতে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হবে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কোনো একসময় পান খাওয়ানো ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কথিত কবিরাজ ও ইমাম আব্দুর রহমান নিজ বাড়িতে ওই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কয়েক মাস পর তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারেন তিনি গর্ভবতী। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানায় যে ওই ব্যক্তি তার সাথে অন্যায় কাজ করেছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গর্ভপাতের পরামর্শ দেয় এবং মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে গত ১৯ মার্চ ওই প্রতিবন্ধী তরুণী একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন।
জেএইচআর