শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে লাল মিয়া নামের এক হৃদরোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসাধীন এক চিকিৎসক ও দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা হাসপাতালের দরজা-জানালা ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. নাসির ইসলামকে বেদম মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় চিকিৎসক ও নিরাপত্তাকর্মীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিলাসখান এলাকার হামেদ কাজীর ছেলে লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসেন। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রোগীর স্বজনেরা ঢাকায় না নিয়ে একটি অঙ্গীকারনামা দিয়ে রোগীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালেই ভর্তি রাখেন। এর কিছুক্ষণ পর রোগী মারা গেলে স্বজনেরা হাসপাতালের কর্মচারীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা চিকিৎসক নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত চিকিৎসক মো. নাসির ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আজ শনিবার দুপুর ১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আহত নিরাপত্তাকর্মী সোহেল মিয়া, আজিজুল রহমান, মোশারফ হোসেন, জাহিদ মিয়া ও সাইফুল ইসলামসহ অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও পুলিশ সুপার রওনক জাহান হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আল আমিন নামের একজনকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার জানান, আহত চিকিৎসকের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, প্রধান অপরাধীকে শনাক্ত করে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এই বিষয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
জেএইচআর