মৌসুমের শুরুতেই ১০০ লিচু বিক্রি ১২০০ টাকায়

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর, সফিপুর, মৌচাক ও চন্দ্রা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমের শুরুতেই লিচুর বাজারে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে বর্তমানে চায়না থ্রি বড় জাতের প্রতি ১০০টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে, যদিও মৌসুমি ফলের স্বাদ নিতে বাজারে ভিড় করছেন অনেকেই।

সোমবার সরেজমিনে কালিয়াকৈর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে ডালসহ তাজা লিচু সাজিয়ে বসেছেন কয়েক ডজন বিক্রেতা। সড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে অস্থায়ী লিচুর হাট। 

বিক্রেতারা জানান, এবার গাজীপুর, কালিয়াকৈর, মির্জাপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরাসরি চাষিরা লিচু নিয়ে আসছেন। তবে বৈশাখের তীব্র গরম ও কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে ফলন কম হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।

লিচু ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, এবার ফলন প্রায় এক-চতুর্থাংশ কম হয়েছে। বাগান থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই চায়না থ্রি বড় জাতের ১০০ লিচু ১২০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আরও ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। আরেক বিক্রেতা মো. সোহেল জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বাগান থেকেই বেশি দামে লিচু কিনতে হচ্ছে, পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

লিচু কিনতে আসা ক্রেতা আলাল বলেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি না করলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে লিচু কিনে খাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। অপর ক্রেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর এই সময়ে ১০০ টাকায় প্রায় ৫০টি লিচু পাওয়া যেত। এবার দাম দ্বিগুণেরও বেশি। বাচ্চাদের জন্য ৬০০ টাকায় ৫০টি লিচু কিনেছি।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে অতিরিক্ত গরম ও আকস্মিক ঝড়ের কারণে গাজীপুর অঞ্চলে লিচুর ফলন প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম হয়েছে। তবে উৎপাদিত লিচুর মান ভালো এবং রস ও মিষ্টতার পরিমাণও বেশি।

কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, এ বছর আবহাওয়াজনিত কারণে লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে বাগানগুলোতে। তবে বাজারে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি। আমরা চাষিদের সরাসরি বাজারে লিচু বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে তারা ন্যায্যমূল্য পান এবং ভোক্তারাও কম দামে কিনতে পারেন।

কালিয়াকৈর বাজার ছাড়াও ফুলবাড়িয়া, শ্রীপুর ও মির্জাপুর এলাকার চাষিরা ভোর থেকেই লিচু নিয়ে বাজারে আসছেন। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগামী সপ্তাহে বোম্বাই, মাদ্রাজি ও চায়না-৩ জাতের লিচুর সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে।

জেএইচআর