আড়াইহাজারে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

শাহজাহান কবির, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে মাটি কিনে বিক্রি করে আসছিলেন ওসমান গনি। বুধবার রাত ১২টার দিকে মাটি তোলার ভেকু ডেবে যায়। খবর পেয়ে ওসমান মোটরসাইকেলযোগে তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ২০/২৫ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র গ্রুপ তাকে ঘিরে ফেলে। কোনো কিছু বলার আগেই ওসমানের মাথা, গলা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সভাপতি ইসমাইল মিয়া জানান, মাটি তোলাকে কেন্দ্র করে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়া ওসমান গণির প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ইউনিয়নের লোক হয়ে দুপ্তারা ইউনিয়নে এসে মাটি তুলছেন- এ কারণে রমজান মিয়া ওসমান গণির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ওসমান গণির সঙ্গে রমজান মিয়ার বাগবিতণ্ডা হয়।

নিহত ওসমান গণি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বড় বিনাইর চর গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে।

আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ মর্গে রয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য সচিব রমজান মিয়াসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্তের আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি আরও বলেন, ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণির হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা ভুলতা-বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়বিনাইরচর এলাকায় বিক্ষোভ করছে। এ সময় আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয় এবং কয়েকটি অটোভ্যান ভাঙচুর করা হয়। এতে সকাল সাতটা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, “আমার চাচার হত্যার বিচার খুব ভয়ংকর হবে।”

ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনির হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোবারক হোসেন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান জানান, ওই স্থানে মাটি তোলার অভিযোগে কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে। তবে ভেকু দিয়ে মাটি তোলার বিষয়ে সরকারি কোনো অনুমোদন ছিল না।

এএন