চাঁদা না পেয়ে গুইমারায় খাল খননের এস্কেভেটরে আগুন

গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় খাল পুনঃখনন কাজে ব্যবহৃত কোটি টাকা মূল্যের একটি এস্কেভেটরে (মাটি কাটার যন্ত্র) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই নাশকতার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, দেশব্যাপী চলমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬ এর আওতায় গুইমারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। উদ্বোধনের মাত্র দুই দিনের মাথায় প্রকল্পে ব্যবহৃত এস্কেভেটরে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে খনন কাজে নিয়োজিত এস্কেভেটরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে যন্ত্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপিডিএফের হাফছড়ি এলাকার পোস্ট কমান্ডার দুর্জয় চাকমা। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্য কোনো পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমরা খাল খনন কাজে কোনো বাধা দিইনি এবং কোনো ধরনের চাঁদাও দাবি করিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্না এবং গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এই বিষয়ে গুইমারা থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা রোধ করা যায়।

জেএইচআর