রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার এবং সারাদেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় ‘চুপ থাকব না, বিচার চাই’, ‘আর একটা রামিসা নয়’ এবং ‘শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত চাই’—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজবাড়ী রোড এলাকা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ মে রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়, যা মানবতার জন্য এক ভয়াবহ কলঙ্ক। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশুদের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মহিলা জামায়াতের গাজীপুর মহানগর সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুহতারিমা আমেনা বেগমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুহতারিমা মারুফা শহীদ, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি নাজমুন নাহার লাভলী, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সম্পাদিকা নাসরিন তাসনিয়া, কর্মপরিষদ সদস্য নাসরিন জাহান গুলশান, খাতেমুন আরা মুক্তা এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা দায়িত্বশীলা ও মহানগরী শুরা সদস্য ফাহমিদা খাতুন লাকি। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নাসরিন আকবর।
বক্তারা অবিলম্বে রামিসা হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রায় কার্যকরের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুরক্ষা টহল, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জেএইচআর