অভিভাবকের মতোই হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়াকে বিশ্বাস করেছিলেন এক অসহায় মা। সেই বিশ্বাসের আড়ালেই তৈরি হচ্ছিল ভয়ংকর এক ফাঁদ। দাওয়াতের কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে কলেজছাত্রীকে চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাগুরার হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর কেটে গেছে কয়েক সপ্তাহ, অথচ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান অভিযুক্ত। এতে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষটাকে আপন ভেবেছিলাম। মেয়ের খোঁজ নিত, সংসারের খোঁজখবর রাখত। কখনো ভাবিনি সে এত বড় সর্বনাশ করবে।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় মুক্ত মিয়া। প্রথমে শহরের স্টেডিয়ামপাড়ার মেলায় ঘোরানো হয়। পরে সহযোগী টিপু সুলতানের মোটরসাইকেলে করে হাজীপুরে মুক্ত মিয়ার বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে রাতে চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণ করে। স্থানীয়রা বলছেন, মেয়েটি এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছে। পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনার বিষয়ে গত ১৭ মে মাগুরা সদর থানায় মামলা করা হলেও এখনো প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশ ভুক্তভোগী পরিবার।
মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিয়েছে। আমরা তদন্ত করছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পৃথক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাগুরা জেলা বিএনপি জানিয়েছে, হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়াকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ ও সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেনের যৌথ সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। যদিও দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ষণ মামলার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নারী অধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, তারা দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জেএইচআর