ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ অনেক দরিদ্র পরিবারের কাছেই হয়ে ওঠে কষ্টের আরেক নাম। ঠিক এমন সময় মাগুরা সদর উপজেলার অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল।
সোমবার দিনব্যাপী মাগুরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়। অবশেষে নগদ অর্থ সহায়তা হাতে পেয়ে ঈদের আগে হাজারো অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি। বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রায় ৭ লাখ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের মধ্যে ছিলেন দিনমজুর, বিধবা, প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, বৃদ্ধ ও অসচ্ছল পরিবার। পরিবারভেদে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সহায়তা নিতে আসা কয়েকজন নারী জানান, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদের কেনাকাটা তো দূরের কথা, সাধারণ সংসার চালানোই তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। ঈদের আগ মুহূর্তে পাওয়া এই সহায়তা তাঁদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল বলেন, “রাজনীতি শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হয় না, মানুষের কষ্টের সময় পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত দায়িত্ব। ঈদকে সামনে রেখে কেউ যেন অভাবে না থাকে, সেই চিন্তা থেকেই এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।”
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার বলেন, সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই করে তাদের হাতেই নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে।
মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান বলেন, “মানুষের দুঃখ-কষ্টের সময় পাশে থাকাই আমাদের অঙ্গীকার। ঈদের আনন্দ সমাজের সব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা যেন প্রকৃত অসহায় মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়, সেটিই নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এমন নগদ সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ঈদের আগে এই উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারগুলোর উৎসবের চাপ কমাতে বেশ কার্যকর হবে।
জেএইচআর