হবিগঞ্জে প্রতিবন্ধকতা জয় করে মানবসেবায় নুর ইসলাম

মীর মো. আব্দুল কাদির, হবিগঞ্জ প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অনেকের জীবনকে থামিয়ে দেয়। কিন্তু হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাতাসার গ্রামের নুর ইসলাম প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি আর মানবতার প্রতি ভালোবাসা থাকলে কোনো বাধাই মানুষের পথ রোধ করতে পারে না।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ নং নিজামপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাতাসার গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম জীবিকা নির্বাহের জন্য হবিগঞ্জ শহরে সংবাদপত্র বিক্রি করেন। সংবাদপত্র বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তার পরিবার। তবে নিজের কষ্টের জীবন সত্ত্বেও তিনি ভুলে যান না সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসহায় পরিবারের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন। কোনো অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন, কোনো পরিবার খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছে, কোনো মসজিদ, মাদ্রাসা বা এতিমখানায় প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব রয়েছে—এমন খবর পেলেই তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

তার এসব মানবিক ভিডিও দেখে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বহু হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে আসেন। অনেক অসহায় পরিবার খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছে তার উদ্যোগে। একইভাবে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য কাপড়, মাদুর, পাখা, মাইকসহ নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

হবিগঞ্জের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে নুর ইসলাম একটি পরিচিত নাম। অনেকেই তাকে ভালোবেসে “মানবিক নুর ইসলাম” নামে ডাকেন। তার মানবিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিজের সীমিত সামর্থ্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও যেভাবে নুর ইসলাম মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তারা মনে করেন, এমন মানবিক উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করা উচিত এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

নুর ইসলাম বলেন, “আমি নিজেও কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করি। তারপরও যখন দেখি কোনো অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে বা কোনো মাদ্রাসা-এতিমখানার প্রয়োজন পূরণ হয়েছে, তখন নিজের কষ্ট ভুলে যাই। আমি চাই মানুষের পাশে থাকতে এবং সমাজের মানবিক মানুষদের সহযোগিতায় আরও বেশি ভালো কাজ করতে।”

মানবতার এই নীরব কর্মী আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি; বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করার অদম্য ইচ্ছাই তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করলে তিনি অসহায় মানুষের দান ও সেবা চালিয়ে যেতে পারবেন। তাকে সহযোগিতা করুন: ০১৭৭৭-২৬৬৯০০।

এএন