মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের প্রধান ফটক ও সামনের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকান নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। হাসপাতালের প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় রোগী, স্বজন ও জরুরি সেবার কাজে আসা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ও আশপাশের এলাকায় সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের দোকান বসানো হয়েছে। চা, পান, ফল, ফাস্টফুডসহ নানা পণ্যের ব্যবসা চলছে প্রকাশ্যে। অনেক দোকানই দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে অবস্থান করায় সেগুলো কার্যত স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময় এসব ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী নোমানী ময়দান এলাকায় ব্যবসা করতেন। পরে বিভিন্ন বিবেচনায় জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় তাদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে তারা হাসপাতালের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জায়গা দখল করে বসেছেন। এতে হাসপাতালের সৌন্দর্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা নিয়মিত কর ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করেও ব্যবসায় মন্দা পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। অথচ সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করছেন।
হাসপাতাল এলাকায় ব্যবসা করা কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ দোকানি বলেন, মানুষের সমাগম বেশি থাকায় এখানে বিক্রি ভালো হয়। জীবিকার প্রয়োজনে তারা এ স্থান বেছে নিয়েছেন।
ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, “হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য রোগীদের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। প্রধান ফটক ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত দোকানপাটের কারণে রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবার কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর হাসপাতাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিল স্থাপন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, “অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত।”
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, “সরকারি জায়গা দখল ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিরাপত্তামূলক সহায়তা দিতে জেলা পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।”
এ বিষয়ে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, “সরকারি জমি, জনস্বার্থ ও জনসাধারণের চলাচলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও প্রবেশপথ বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো অবৈধ দখল বা স্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, মাগুরা সদর হাসপাতাল জেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসেন। অথচ হাসপাতালের মূল ফটকজুড়ে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান এখন রোগীসেবা, নগর শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাসপাতাল এলাকার অবৈধ দখল উচ্ছেদে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে জনভোগান্তি কমবে এবং হাসপাতালের পরিবেশও ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মর্যাদা।
এএন