মাগুরা শহরের সড়ক ধরে হাঁটলে এখন চোখে পড়ে এক ভিন্ন দৃশ্য। কোথাও ফলজ, কোথাও বনজ, কোথাও আবার ঔষধি গাছের সারি। প্রতিটি গাছের চারপাশে সুরক্ষাবেষ্টনী, নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থা এবং বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মাগুরায় যতটা পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা হয়েছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের। জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে তিনি শুধু আনুষ্ঠানিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং গাছ লাগানোর পর সেগুলোর টিকে থাকা নিশ্চিত করতেও নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ।
মাগুরা শহরের আবালপুর, দুয়ারপাড়, পুলিশ লাইন, নিজনান্দুয়ালী, পারনান্দুয়ালী, নতুন বাজার, পুরাতন বাজার, ঢাকা রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে হাজারো গাছ রোপণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ দেখা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিচর্যার অভাবে কিংবা অসাধু চক্রের কারণে সেসব গাছ হারিয়ে গেছে। এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
শহরের একাধিক বাসিন্দা বলেন, মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল জানান, “অনেক কর্মকর্তা মাগুরায় দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কিন্তু গাছ লাগিয়ে সেগুলোকে রক্ষা করার এমন আন্তরিক উদ্যোগ খুব কমই দেখা গেছে। এখন রাস্তায় বের হলেই বোঝা যায় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।”
সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রোপা আমন ও বৃক্ষরোপণ প্রণোদনা সংক্রান্ত জেলা কৃষি প্রণোদনা কমিটির সভাতেও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
একই দিনে শিক্ষা খাতে উদ্ভাবনী কার্যক্রম নিয়ে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)-এর সভা এবং মাগুরা শিশু ও চক্ষু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের একাধিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্যেও পরিবেশবান্ধব মাগুরা গঠনের উদ্যোগ বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, একটি গাছ লাগানোর চেয়ে সেটিকে বাঁচিয়ে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় মাগুরা জেলা প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। কারণ সড়কের পাশে লাগানো গাছগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে নেট-বেষ্টনী স্থাপন এবং নিয়মিত তদারকির ফলে গাছগুলোর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মাগুরা আরও সবুজ, ছায়াঘেরা ও পরিবেশবান্ধব জেলায় পরিণত হবে। আর সেই পরিবর্তনের ইতিহাসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এএন