সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সাড়ে ৩ বছর থাকাকালীন বাংলাদেশে যত ভালো কাজ হয়েছে, প্রতিটির সঙ্গেই তিনি জড়িয়ে আছেন। দেশপ্রেম কত বড় জিনিস, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ জিয়াউর রহমান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, কিন্তু কখনো পালিয়ে যাননি বা আত্মসমর্পণ করেননি।
শুক্রবার সকালে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শেষে জিয়াউর রহমান পেশাগত দায়িত্বে ফিরে গিয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর জুনিয়রকে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হলেও তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। তিনি অত্যন্ত শৃঙ্খলাবোধ ও পেশাগত দায়িত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন এবং কোনো বিতর্কের জন্ম দেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তার ফলকটি তুলে ফেলা হয়। পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুনরায় এই মেডিকেল কলেজ চালু করেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—কৃষি ও কৃষক, তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) রপ্তানি খাত এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। এই তিনটিরই রূপকার ও জনক হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি প্রথম দক্ষিন কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেশে গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেন এবং প্রথম চালানে ১০ হাজার তৈরি পোশাক ফ্রান্সে পাঠিয়েছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, যার সুফল দেশবাসী আজও পাচ্ছে। তাঁর উদ্যোগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়, যেখান থেকে প্রবাসীরা এখন কোটি কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া ক্যাডারভিত্তিক প্রশাসনে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করেছিলেন তিনি।
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. হাসনাইন আকতার হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ আকতারুজ্জামান মিয়া এমপি, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, পিএসসির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ টি এম ফরিদ উদ্দীন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা খালেকুজ্জামান বাবু।
জেএইচআর