মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় ফাঁসির রায়ের নথি লাল কাপড়ে মুড়িয়ে উচ্চ আদালতে

মেহেরপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

মেহেরপুরে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক যুবকের ফাঁসির আদেশের নথি (ডেথ রেফারেন্স) লাল কাপড়ে মুড়িয়ে পুলিশ পাহারায় উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা হাইকোর্ট বেঞ্চ ও আপিল বিভাগ এই রায়ের নথি পর্যালোচনা এবং শুনানি গ্রহণ শেষে ফাঁসি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন বলে জানিয়েছেন মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে জেলা পুলিশের একটি দল ও আদালতের অফিস সহকারী আহাদ হোসেন ফাঁসির রায়ের নথি লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।

পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন, সিআরপিসির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী নিম্ন আদালতে ফাঁসির রায়ের পর তা অনুমোদনের জন্য তিন কর্মদিবসের মধ্যে নথি লাল কাপড়ে মুড়িয়ে পুলিশি পাহারায় উচ্চ আদালতে পাঠানো বাধ্যতামূলক। ঈদের ছুটির পর আদালত খুললে আজ সেটি পাঠানো হলো। 

এই নথি ঢাকা হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ ও আপিল বিভাগে পৌঁছানোর পর পেপার বুক তৈরি করে শুনানির দিন ধার্য করা হবে। উচ্চ আদালত শুনানি শেষে ফাঁসির রায় বহাল রাখা ও তা কার্যকরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। দেশের ইতিহাসে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জেরা ও জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দেন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু তার পিতাকে বাড়ির পাশের আবাদী মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় শাকিল হোসেন তাকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী পাটক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী শাকিলকে আটকে গণপিটুনি দেয়। 

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার দেখায়। এই ঘটনায় শিশুর পিতা ইছানুল হক গাংনী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

জেএইচআর