বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শুরু হয়েছে হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮। গত সোমবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে নতুন হিজরি বছরের গণনা শুরু হয়। মুসলিম বিশ্বের কাছে হিজরি নববর্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ, যা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক হিজরতের স্মৃতিকে ধারণ করে।
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মক্কায় ইসলাম প্রচারে চরম বাধার মুখে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে হিজরি সনের প্রচলন করা হয়। ইসলামের প্রসার, ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে হিজরি সনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমকে ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র কোরআনে মহররমকে চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) মহররমকে ‘আল্লাহর মাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং হাদিস অনুযায়ী, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা।
মহররম মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরা, ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা ফেরাউনের নির্যাতন থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এ ছাড়া ৬১ হিজরির ১০ মহররম সংঘটিত কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার কারণে একটি স্বতন্ত্র ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাহাবিদের পরামর্শক্রমে মহানবী (সা.)-এর হিজরতকে ভিত্তি ধরে হিজরি সনের সূচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই থেকে মুসলিম বিশ্বে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হচ্ছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, নতুন হিজরি বছর মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও নতুনভাবে জীবন গঠনের সুযোগ এনে দেয়। অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য তওবা, নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, মানবসেবা এবং নৈতিক জীবনচর্চার মাধ্যমে নতুন বছরকে অর্থবহ করে তোলা উচিত। নতুন হিজরি বছর হোক গুনাহ থেকে ফিরে আসার, ঈমানকে আরও দৃঢ় করার এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নতুন অঙ্গীকারের সূচনা।
জেএইচআর