যমজ দুই বোনের সাথে যমজ দুই ভাইয়ের বিয়ে শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘন ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার যমজ দুই ভাইয়ের সাথে ভূঞাপুরের যমজ দুই বোনের এই রাজকীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের যমজ দুই মেয়ের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের মো. নুরুল আলমের যমজ দুই ছেলের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর ও কনেপক্ষের এই মিলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যমজ নবদম্পতিদের এক নজর দেখতে কনের বাড়িতে ভিড় জমান দূর-দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক জনতা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, যমজ দুই ভাই মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মো. আব্দুল জব্বার দুজনেই দুবাই প্রবাসী। আজ পারিবারিকভাবে মো. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে সুমাইয়া আক্তারের এবং মো. আব্দুল জব্বারের সাথে সোনিয়া আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রত্যেকের তিন লক্ষ টাকা করে মোট ছয় লক্ষ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সচরাচর এমন বিয়ে দেখার সুযোগ মেলে না। তাই এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে বিয়ের দাওয়াত না পেয়েও অনেকে একনজর দেখতে এসেছেন। যমজ দুই জোড়া বর-কনেকে একসাথে দেখতে বেশ চমৎকার লাগছিল। সবাই নতুন দুই দম্পতির সুখী জীবনের জন্য দোয়া করছেন।
যমজ দুই ভাই বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছি এবং পড়াশোনা শেষ করে দুজনেই বর্তমানে প্রবাসে আছি। আমাদের দুজনেরই ইচ্ছে ছিল যমজ দুই বোনকে বিয়ে করার। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপ ও মেসেঞ্জারে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই যমজ দুই বোনের সন্ধান পাই। আলহামদুলিল্লাহ, দুই যমজ বোনকে বিয়ে করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
যমজ দুই কনের চাচা রফিকুল ইসলাম মনি বলেন, ফেসবুক এবং এলাকার এক শিক্ষকের মাধ্যমে এই যমজ দুই ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়। ভাতিজি দুজনই এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। আল্লাহ তাআলা নিজ দায়িত্বে তাদের চমৎকার জুটি মিলিয়ে দিয়েছেন। আমরা পুরো পরিবার অত্যন্ত খুশি।
যমজ দুই বরের বাবা মো. নুরুল আলম আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, যমজ দুই ছেলের জন্য যমজ দুই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে পেয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমি আমার সন্তান ও নতুন পুত্রবধূদের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
জেএইচআর