কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার (৩৫) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী দাবি করেছেন, ধর্ষণের চেষ্টা থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই তিনি এনায়েতুর রহমানকে হত্যা করেছেন। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক নারী প্রাথমিকভাবে আত্মরক্ষার্থে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর দাবি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত এনায়েতুর রহমান এবং প্রবাসী সুমন চৌধুরীর বাড়ি পাশাপাশি। কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে দেশে আসা সুমন চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, এনায়েতুর রহমান তার স্ত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। তবে এনায়েতুর রহমান শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছিল। চার দিন আগে সুমন পুনরায় কর্মস্থলের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন।
নিহতের মা নেহারা বেগম দাবি করেন, তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি ও আঙুল কার্যকর না থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজ করতে পারতেন না। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী ওই নারী কৌশলে তার ছেলেকে ঘরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, আটক নারী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্যই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এ দাবির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এএন