সংস্কারের অভাবে মাগুরা শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি অভ্যন্তরীণ সড়ক এখন সাধারণ মানুষের জন্য চরম মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শহরের ‘পারনান্দুয়ালী নতুন ব্রিজ হতে ব্যাপারী পাড়া’ সড়ক এবং ‘পুলিশ লাইন থেকে কুকনা সড়ক’ এই দুটি সড়কের কার্পেটিং, পিচ ও খোয়া সম্পূর্ণ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দে একাকার হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো মেরামত না করায় সড়ক দুটি বর্তমানে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, পারনান্দুয়ালী নতুন ব্রিজ থেকে শুরু করে ব্যাপারী পাড়া হয়ে মহাসড়কে (ঢাকা রোড) সংযোগকারী সড়কটি অত্র এলাকার যোগাযোগের মূল মাধ্যম। সড়কটির মাঝে মাঝে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে ডোবায় পরিণত হয়।
পারনান্দুয়ালী এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন আমাদের যাতায়াত করতে হয়। রিকশা বা ইজিবাইকে উঠলে মনে হয় এই বুঝি উল্টে গেল! সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে যায়। আমরা ট্যাক্স দিই, কিন্তু চলাচলের মতো ন্যূনতম ভালো রাস্তা পাচ্ছি না।
একই এলাকার ইজিবাইক চালক তোফায়েল আলী জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ির পার্টস ভেঙে যায় এবং মাঝেমধ্যে যাত্রীসহ গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাতে এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে, শহরের পুলিশ লাইন থেকে কুকনা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কটির বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। সড়কটির বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং পুরোপুরি ধসে গিয়ে মাটির রাস্তার রূপ নিয়েছে। আশপাশের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাটির মূল ভিত্তি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুকনা এলাকার শিক্ষক আমিনুর ইসলাম বলেন, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তাটির যে বেহাল দশা, তাতে সুস্থ মানুষও এই পথে চললে অসুস্থ হয়ে পড়বে। গর্ভবতী নারী বা কোনো জরুরি রোগী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে যাওয়া অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক দুটির এই বেহাল দশা ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে মাগুরা পৌরসভা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান বারী জনদুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কুকনা প্রধান সড়ক ও ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। ইসলামবাগ সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে, যা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পারনান্দুয়ালী ও কুকনা এলাকার এই তিনটি সড়কই আমাদের নজরে আছে। ভারী যানবাহন চলাচল এবং জলবায়ুজনিত কারণে সড়ক দুটির কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ইতিমধ্যে সড়ক দুটি টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই বরাদ্দ অনুমোদন হবে। তবে জনগণের সাময়িক চলাচলের সুবিধার্থে অতি দ্রুত পৌরসভা থেকে ইটের খোয়া বা রাবিশ ফেলে বড় বড় খানাখন্দগুলো ভরাট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেএইচআর