অনলাইনে জুয়ায় টাকা হারিয়ে সেই ঘটনা আড়াল করতে ছিনতাইয়ের নাটক সাজানোর অভিযোগে নাটোরে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের এক সেলস অফিসারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ওই কর্মীর নাম মো. স্বাধীন হোসেন (২২)।
পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে বিভিন্ন এজেন্ট পয়েন্টে লেনদেনের জন্য স্বাধীন হোসেনকে নগদ ২ লাখ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ডিজিটাল ব্যালেন্স দেওয়া হয়। তবে দিন শেষে তিনি ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে ফিরে দাবি করেন, নাটোর সদর উপজেলার নারায়ণপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাঁর পথরোধ করে নগদ টাকা ও অফিশিয়াল মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নাটোর সদর থানা পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। তবে শুরুতেই স্বাধীনের দেওয়া তথ্যে একের পর এক অসংগতি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়, কথিত ওই স্থানে ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
একপর্যায়ে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে স্বাধীন হোসেন আসল সত্য স্বীকার করেন। তিনি জানান, অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সব টাকা হেরে যান। এরপর এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা গোপন করতে এবং আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে ছিনতাইয়ের একটি সাজানো গল্প তৈরি করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
এ ঘটনায় বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের বিজনেস ম্যানেজার বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে গত ২ জুলাই রাতে শহরের স্টেশন বাজার এলাকা থেকে স্বাধীন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ছিনতাইয়ের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক জুয়ায় টাকা হারানোর পর তা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজানোর কথা স্বীকার করেছেন। আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেএইচআর