রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকায় এক রিকশাচালককে সংঘবদ্ধভাবে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু থাকায় তাদের বিরুদ্ধে শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রোববার শাহমখদুম থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নজরে আসে। এরপর তার নির্দেশ ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শাহমখদুম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শাহমখদুম থানার কালুরমোড় গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. রাকসান (২০), একই এলাকার আবিদ, খিরশিন টিকর দারারধার গ্রামের লাম, চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল গ্রামের জাহিদুল, শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম কুচপাড়া গ্রামের সাব্বির এবং একই থানার বড়বনগ্রাম মাস্টারপাড়া গ্রামের প্রান্ত।
পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ৩ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহমখদুম থানার ডাবতলা থেকে সিটিহাটগামী সড়কের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত দলীয় কার্যালয়ের সামনে ১৭ বছর বয়সী এক রিকশাচালকের (ছদ্মনাম কিশোর) গতিরোধ করে হামলাকারীরা। পরে তারা লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।
এ সময় হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর কাছে মোবাইল ফোন কেনার জন্য রাখা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি তার রিকশার মিটার ভাঙচুর করে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শাহমখদুম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু থাকায় তাদের বিরুদ্ধে শিশু আইনের বিধান অনুসারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহানগরীতে সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ দমনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এএন