টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে রোহিঙ্গাসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় নতুন করে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। একই সাথে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জোরদার করা হয়েছে সতর্কতামূলক প্রচারণা ও উদ্ধার তৎপরতা।
মঙ্গলবার কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হাজীপাড়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন এবং কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় নতুন করে ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পাহাড়ের পাদদেশে বা ঢালে বসবাসকারী কাউকে ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান না করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সচেতন করা হচ্ছে।
শুধু জেলা সদর নয়, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও ঈদগাঁওসহ বিভিন্ন উপজেলাতেও প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, যারা এখনো পাহাড়ে বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছেন, তাদের নিরাপদ স্থানে সরাতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কেউ যেন অবস্থান না করেন। জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেএইচআর