সমাবেশ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণসহ নানা উৎসবমুখর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫ জুন পরিবেশ দিবস পালন করা হলেও বিশেষ কারণে বাংলাদেশে এ বছর ৫ জুনের পরিবর্তে আজ ৯ জুলাই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় আমাদের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটি বতর্মান সরকারের একটি অনন্য পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি। সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে চলতি বছরেই ৫ কোটি চারা রোপণ করা হবে।
জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে এর ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার অনুরোধ করেন এবং প্রতিবেশ সুরক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত দুটি করে গাছের চারা রোপণ ও তার পরিচর্যার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান পরিবেশ সংরক্ষাকে সবার নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কেএমপি মহানগরীর বিভিন্ন থানা, পুলিশ লাইন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ও জনসম্পৃক্ত স্থানে ১২ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণের বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশকে বাঁচাতে হলে তরুণদের অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে এবং পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. কাজী আবু রাশেদ। সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও করণীয় নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. মুজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক।
সভার শেষ পর্যায়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। খুলনাস্থ বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয় উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
জেএইচআর