নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রোববার এক নবজাতকের মৃত্যুর পর চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে নিহত নবজাতকের স্বজনদের হামলা ও মারপিটের শিকার হয়েছেন নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী পরিচালক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার সময় নবজাতকের স্বজনেরা নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বাইরের রাস্তায় উপসহকারী পরিচালক ডা. শাহাবুজ্জামানকে মারপিট করছেন। তিনি দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও কয়েকজন পুলিশের বাধা অমান্য করে তাকে মারধর করেন।
নিহত নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবব্যথা নিয়ে সদর উপজেলার আগদীঘা গ্রামের গৃহবধূ রুমি বেগমকে রোববার ভোরে নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে গৃহবধূ স্বাভাবিকভাবে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সময়মতো চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় শিশুটিকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুপুরের দিকে ঘটনার খবর পেয়ে তাদের আরও স্বজন হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় বিষয়টি তদন্ত করতে সেখানে যান উপসহকারী পরিচালক ডা. শাহাবুজ্জামান। উত্তেজিত লোকজন তখন তার ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে।
নিহত নবজাতকের বাবা অটোরিকশাচালক বাবু আলী বলেন, ‘এটা আমার প্রথম সন্তান। আমার সন্তানকে খুন করা হয়েছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে আমার সন্তানকে বাঁচানো যেত। আমি এর বিচার চাই।’
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান জানান, জাতীয় জনসংখ্যা দিবসের একটি সভা থাকায় তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলেন। পরে হাসপাতালে এসে ঘটনাটি দেখে শিশুটিকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হামলার শিকার উপসহকারী পরিচালক ডা. শাহাবুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি শুনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গেলে নিহত নবজাতকের স্বজনরা তার ওপর অতর্কিত হামলা করেন। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তাকে মারপিট করা হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনোয়ারুল আজিম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপসহকারী পরিচালক শাহাবুজ্জামান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আলোচনা করে পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএন