জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়া এলাকায় রাক্ষুসে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
নদীভাঙনের ভয়াবহতায় ইতোমধ্যেই ওই এলাকার প্রধান সড়ক, মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অসংখ্য বসতবাড়ি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অব্যাহত এই ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষুসে ছোবলে মোহাম্মদপুর গ্রামের মাজম আলী, নালচন, সামাদ ও রুপচানসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়ি ও ভিটেমাটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল হারিয়েছে এসব পরিবার। এদিকে প্রধান সড়ক, স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যালয়সহ পুরো এলাকাকে ব্রহ্মপুত্রের গ্রাস থেকে রক্ষা এবং স্থায়ী ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়া এলাকার বাসিন্দারা।
নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো ভুক্তভোগী তোফাজ্জল ও নুর ইসলাম ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, “চোখের পলকে আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ব্রহ্মপুত্র নদী গিলে খেল। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, সেই পথটুকুও নেই। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা এই রাক্ষুসে নদীর ভাঙন থেকে বাঁচতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ চাই।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক মাধ্যমিক কর্মকর্তা ছরোয়ার আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়ার প্রধান সড়ক আর মসজিদ-স্কুল যদি নদীগর্ভে চলে যায়, তবে আমাদের পুরো এলাকা মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, অতি দ্রুত যেন এখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়।
গোয়ালেরচর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম মাস্টার ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক বলেন, যদি অনতিবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. জুবায়ের বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এএন