রাজস্বের দিক দিয়ে এগিয়ে হলেও উন্নয়নের দিক থেকে বঞ্চিত মৌলভীবাজারের বড়লেখার শতবর্ষী চান্দ্রগ্রাম বাজার। সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পেলেও দুবাই বাজার ও গরুর বাজারে শেড না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে সবজি ও মাছ বাজারের জন্য সরকারের নির্মিত তোহা বাজারের শেডে ব্যবসায়ীরা না বসে বাইরে ব্যবসা করায় ক্রেতাদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তোহা বাজারের শেডে ব্যবসায়ীদের বসানো, দুবাই বাজার ও গরুর বাজারে শেড নির্মাণসহ সব ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান চান সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা।
মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আসে শতবর্ষী সুনাই নদীর তীরে অবস্থিত চান্দ্রগ্রাম বাজার থেকে।
বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হলেও সে তুলনায় বাজারটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। শত বছর আগে বাজারটির কার্যক্রম শুরু হয়। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ প্রবাসী।
১৯৯০ সালের ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের পর বাজারটি ‘দুবাই বাজার’ নামে পরিচিতি পায়। যুদ্ধ চলাকালে কুয়েত থেকে দেশে ফিরে কর্মহীন হয়ে পড়া অনেক মানুষ বিদেশ থেকে আনা ইলেকট্রনিক পণ্য—টেপ, রেডিও, ঘড়ি, লাইট, কম্বলসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনাবেচা শুরু করেন। সেখান থেকেই বাজারটির নাম হয় ‘দুবাই বাজার’।
দুবাই বাজারে কোনো শেড না থাকায় এসব পণ্য খোলা আকাশের নিচে বিক্রি করতে হয়। অনেক সময় বৃষ্টি ও ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।
তবে দুবাই বাজারে আসা অনেকেই জানিয়েছেন, এ বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন পণ্য কিনতে পারেন। এজন্য তারা নিয়মিত এখানে আসেন।
গরু, ছাগল ও মহিষের বাজারেও কোনো শেড নেই। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বাজার বসার কারণে নদীর পাশ দিয়ে গ্রামের মানুষের যাতায়াতেও নিয়মিত ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত তোহা বাজারে শেড নির্মাণ করা হলেও সেখানে না বসে তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় খোলা আকাশের নিচে ব্যবসা করছেন। এতে ক্রেতা, বিক্রেতা ও বাজারে আসা সাধারণ মানুষকে অনেক সময় বৃষ্টিতে ভিজেই কেনাকাটা করতে হয়। পাশাপাশি পাশের সড়ক দিয়ে চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়।
বাজারের সভাপতি, ইজারাদার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন বলেন, বিগত ১৫ বছরে বাজারে কোনো কাজ হয়নি। তবে উপজেলায় বাজারের কাজ হয়েছে- এমন তথ্য শুধু কাগজে-কলমেই রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগও দিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত শেডে যেতে চাইছেন না। তবে তিনি গরুর বাজারে শেড নির্মাণের দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
বড়লেখা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বলেন, বাজার ইজারা হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা শেড নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
চান্দ্রগ্রাম বাজারে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা ও সচেতন মহল চান, তোহা বাজারের শেডে ব্যবসায়ীদের বসানোসহ দুবাই বাজার ও গরুর বাজারে দ্রুত শেড নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।
এএন