মেহেরপুরে চুরি ও পকেটমার সন্দেহে ৬ নারী সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাঁদের আটক করে কর্মরত আনসার সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আটককৃতরা হলেন- রুমি (১৭), মনিকা (১৭), মনোয়ারা (১৮), সীমা (১৬), রহিমা (৩৫) ও আফরোজা (৬০)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বাড়ি জামালপুর জেলায়। বর্তমানে তাঁরা মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করছেন।
হাসপাতালের ভুক্তভোগী হাসান আলী জানান, তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল খাতুন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সকালের দিকে তাঁকে দেখতে আসেন তাঁর আত্মীয় রনি খাতুন। সঙ্গে ছিল ২ বছর বয়সী এক শিশু। শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালের লিফটে ৬ তলা থেকে নিচে নামার সময় শিশুটির হাতে থাকা একটি স্বর্ণের বালা ছিনিয়ে নেয় চোর চক্রের সদস্যরা। পরে অন্য এক রোগীর পকেট থেকে টাকা বের করতে গিয়ে হাতেনাতে জনতার হাতে ধরা পড়েন ওই ৬ নারী সদস্য।
আটকের পর আনসার সদস্যরা তাঁদের শরীর তল্লাশি চালালেও কোনো অর্থ বা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করতে পারেননি। আনসার সদস্যদের ধারণা, চুরির পরপরই মালামালগুলো চক্রের সাথে থাকা পুরুষ সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। তবে আটককৃতদের কাছ থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যার কল লিস্ট যাচাই-বাছাই করলে পুরো চক্রটিকে চিহ্নিত করা যাবে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর জানান, অভিযুক্তদের থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সময়ই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চুরির শিকার হন রোগীর স্বজনরা। কিন্তু চোর চক্রের মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
জেএইচআর